
Blog · Trek & Travel
স্পিতিতে ছয় প্রবীণের মহাভারত!
Author: Rajib Sengupta
দুই ডাক্তার সহ ছয়জন দামাল প্রবীণ, স্পিতির পাহাড়ে বেরিয়েছিল জনসেবা আর ভ্রমণের মহৎ উদ্দেশ্যে। লোসার, কিবের, 'কী' মঠ, হিকিম, কমিক ঘুরে টাবো-ধনকর যাওয়ার পথে হঠাৎ গাড়ির চাকা বেঁকে বসল! একদিকে খাড়া পাহাড়, অন্যদিকে গভীর খাদ—তার মধ্যেই দল ছড়িয়ে পড়ল। কেউ গাড়ি সারাতে চললো , কেউ অচেনা গাড়িতে রওনা দিল, কেউ আবার কাদায় গড়াগড়ি খেল! শেষে অনিলের ছোট্ট গাড়িতে জায়গা না হওয়ায় এক বীরপুরুষ উঠে বসল গাড়ির ছাদে।পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে প্রাণ হাতে করে সবাই পৌঁছল ধনকরে। তারপর গাড়ির প্রত্যাবর্তন—আর সবার মুখে একটাই কথা: “সব ভালো যার শেষ ভালো!” এ কেবল স্পিতি ভ্রমণের গল্প নয়—এ ছয় প্রবীণের বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে করা একখানা দুঃসাহসিক কমেডি!

এবার মোদের ডাক এসেছে হিমাচলের স্পিতি হতে, চলবে ছ'জন দামাল প্রবীণ মিলেমিশে সাবেক নবীন।
দুই ডাক্তার মধ্যমণি তাদের আশায় গিরিগুণী, কৃষ্ণেন্দু ও কৃষ্ণপদ করবে সবার উপশম।
গ্রামবাসী ও সন্ন্যাসী দের উপচার ও বিধান দিয়ে, জনসেবা করবে সবে সেই সুযোগে বেড়িয়ে নিয়ে।
স্পিতির বুকে হরেক কোণে গ্রাম, জনপদ, শহর, মঠে, সফরসুচি অনেক ভেবে শেখর ভায়ার কঠিন শ্রমে।
লোসার থেকে কিবের ছুঁয়ে 'কী' এর মঠ আর ল্যাঙজা হয়ে, হিকিম, কমিক খানিক দেখে এবার যাওয়া টাবোর মঠে।
হাজার বছর দেওয়াল ছবি বোধিস্বত্ব ও মৈত্রেয়ী, সেসব দেখে ফিরবে সবে ধনকরের গ্রামের পথে।
ফেরার পথে গোল বাঁধলো গাড়ির চাকা বেহাল হলো, পথের মাঝে দাঁড়িয়ে পড়ে হট্টগোলে ব্যাস্ত হলো।
একদিকেতে উঁচু পাহাড় অন্য পাশে গভীর খাদ, ছুটছে স্পিতি গভীর তলে তীব্র গতি, জলোচ্ছাসে।
ভ্রূকুঞ্চিত, চিন্তা মনে একই কথা সবার মুখে, 'গাড়ি তো আর নড়বে না হে - ধনকর যে ন'মাইল দুরে'!
বিচার শেষে স্থির হলো এই, স্থবির হয়ে লাভ কিছু নেই, এগিয়ে চলো যে যা পারো একত্রিতে নাই বা হলো।
বাদল-দা আর চালক মিলে চলল গাড়ির মেরামতে, দড় কারিগর নেই যে সেথে যেতেই হবে কাজার পথে।
তিন জনেতে ধরল রথী অচিন চালক আরেক সাথী, ক্রোশ দুই-তিন এগিয়ে গেল দল-বল সব ছড়িয়ে গেল।
শেষ দুই জন রইল পড়ে, দাঁড়িয়ে থেকে, কপাল ফেরে, জুটল কিছু দু-চাক যান, সঙ্গে নিল, বাঁচল প্রাণ।
ক্ষণিক ভুলে শেখর দাদা পড়লে জলে মাখলে কাদা, ক্রুদ্ধ হতাশ মুুখ খানি তার, ভাগ্যি, ব্যাথা লাগেনি তার।
ভুলখানি তার নয়কো মোটে - পথের সাথীর ভরসাতে, ভুলবশে সে বিপথ গেল পড়লো দোঁহে একসাথে।
হায় রে কপাল, হায় কি মতি! চলছিল সব ঠিক-ঠাকই, কেন হলেম বাঁধনছাড়া কেনই বা এই দূর্গতি!
রোসো, রোসো সুধি জনে গল্প বলা হয়নি ক্ষণে, বলবো এবার মজার কথা শুনবে, তবে হাসতে মানা।
পাঁচ জনাতে দাঁড়িয়ে মোরা ভাবতে থাকি কিই-বা করা, জনশূন্য গিরিশ্রেণী দিনের শেষে হয়রানি।
খেয়াল বশে পড়লো মনে দূরভাষ তো আছে সাথে, অনিল কুমার ধনকর হতে আনলে গাড়ি বাঁচলে তবে।
গাড়িটি তার খানিক ছোটো সবক'জনে আঁটবে নাকো, এবার তা'লে? ভাবতে বসে কে যাবে, কে রইবে পড়ে।
'ভাবনা কিসের?', বললে অনিল, 'গাড়ি তো বই, হোক না ছোট, ভিতর মাঝে জায়গা না হোক একজনাতে ছাদে বসো'!
শুনেই সবাই মলিন মুখে এদিক সেদিক তাকিয়ে থাকে, কোন সাহসী উঠবে ছাদে ভয় যে আছে সবার প্রাণে।
এমন সময় এগিয়ে আসে অদম্যে ও বীর সাহসে, উঠলে বেয়ে তরতরিয়ে শক্ত কষে জাঁকিয়ে বসে।
সবার প্রাণে স্বস্তি এনে ভয়কে যে করল জিৎ, জানতে যদি কে ছিল সে নাম ছিল তার শুভ-জিৎ।
এদিক-সেদিক এঁকে-বেঁকে চলল গাড়ি পাহাড় বেয়ে, এদিক খাদে, ওদিক বাঁকে এই-বা ঝোঁকে, ওই-বা টলে।
গাড়ির মধ্যে চার বীরেতে বসছে চেপে ঘেসেঘুসে, কখন-সকন হাঁক পেড়েছে 'ওহে ভায়া! আছো টিকে'?
জবাব আসে, নাই বা আসে, মনের মাঝে শঙ্কা থাকে, কেবল ভাবে আর কত দুর, ভাগ্য যে আজ বড়ই নিঠুর।
মিলল দেখা পথের মাঝে এক দঙ্গল ছেলে-মেয়ে, মুচকি হেসে হাত নাড়াল সবাই হাসির খোরাক হলো।
শেষ অবধি গড়গড়িয়ে পৌঁছে গাড়ি ধনকরেতে, নামলে সবাই হুড়মুড়িয়ে নতুন বাসার দরজা তে।
সবার মনে ভাবনা এবার বাদল ভায়ার খবর নেবার, সাহস তারও কম বা কিসে রাত বিরেতে ফিরছে যে সে!
জনবিহীন নিঝুম রাতে, কঠিন পাহাড় গিরি পথে, সুদূর কাজার প্রান্ত হতে, কেবল সে, আর চালক সাথে।
বাদল এলো, গাড়িও এলো ফের সবে একত্র হলো, বাঁচল সবাই, হাঁফ ছাড়লো সব ভাল যার শেষটি ভাল।
গল্প বলা শেষ হল ভাই রাজিব সেন সমর্পিত, রসিয়ে ফলাও তোমরা সবাই অভিজ্ঞতা বলার মতো।।
- : শেষ : -
© 2026 Rajib Sengupta. Original story, style and events are the sole intellectual property of the author. All rights reserved.